ডায়মন্ড (Diamant)
সাদা খোসা, ডিম্বাকৃতির ও হালকা হলুদ শাঁসযুক্ত। বাংলাদেশের কৃষকদের মাঝে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও উচ্চফলনশীল জাত।
মেয়াদ: ৯০-৯৫ দিন | গড় ফলন: ২৫-৩০ টন/হেক্টরউন্নত জাতের রোগমুক্ত বীজ নির্বাচন, বীজ শোধন, জমিতে সুষম সার ও নিয়ন্ত্রিত সেচ, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় লেট ব্লাইট দমন এবং তোলার পর বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ নির্দেশিকা।
আপনার এলাকার মাটির গঠন ও বাজারের চাহিদানুযায়ী সঠিক জাত নির্বাচন করুন।
সাদা খোসা, ডিম্বাকৃতির ও হালকা হলুদ শাঁসযুক্ত। বাংলাদেশের কৃষকদের মাঝে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও উচ্চফলনশীল জাত।
মেয়াদ: ৯০-৯৫ দিন | গড় ফলন: ২৫-৩০ টন/হেক্টরলাল রঙের খোসা ও মসৃণ গোলগাল আকৃতি। ভোক্তাদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য এবং পরিবহনে ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়।
মেয়াদ: ৮৫-৯০ দিন | গড় ফলন: ২২-২৮ টন/হেক্টরগ্র্যানোলা গোলগাল ও হলুদাভ; অন্যদিকে লাল রঙের অ্যাস্টেরিক্স চিপস ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
মেয়াদ: ৮০-৮৫ দিন | আগাম ও প্রক্রিয়াজাতকরণ উপযোগীবীজ জাগ দেওয়া থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সঠিক বিজ্ঞানসম্মত পরিচর্যা করুন।
হিমাগার থেকে বীজ আলু বের করার সাথে সাথে জমিতে রোপণ করা যাবে না।
মাটিবাহিত ও ছত্রাকজনিত রোগ প্রতিরোধে বীজ শোধন সবচেয়ে লাভজনক পদক্ষেপ।
আলু মাটির নিচের ফসল হওয়ায় গভীর, ঝুরঝুরে ও দোআঁশ মাটি সর্বোৎকৃষ্ট।
আলুতে পটাশ সারের চাহিদা অত্যন্ত বেশি; এটি আলুর আকার ও ত্বক মজবুত করে।
আলু অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তবে মাটির রস কমলে ফলন কমে যায়।
আলুর চামড়া শক্ত ও মজবুত করতে সময়মতো গাছের ডালপালা কেটে দিতে হয়।
সঠিক সময়ে লক্ষণ শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
পাতায় ভেজা বাদামি দাগ পড়ে, পাতার নিচের অংশে সাদা ছত্রাক দেখা যায় এবং কয়েক দিনের মধ্যে পুরো ক্ষেত পুড়ে যাওয়ার মতো কালো হয়ে মরে যায়। কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘলা দিনে আক্রমণ তীব্র হয়।
কোনো বাহ্যিক দাগ ছাড়াই হঠাৎ দুপুরের কড়া রোদে গাছ নেতিয়ে পড়ে। কাণ্ড কেটে পরিষ্কার পানিতে রাখলে সুতার মতো সাদা ব্যাক্টেরিয়ার কষ নির্গত হতে দেখা যায়।
জাবপোকা পাতার রস চুষে খায় এবং মারাত্মক লিফ-রোল ভাইরাস রোগ ছড়ায়। এরা আক্রমণ করলে আলুর ফলন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। বীজ আলুর জন্য জাবপোকা দমন অত্যন্ত জরুরি।
টানা কুয়াশা, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ভেজা আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেলে রোগ লাগার আগেই ম্যানকোজেব (যেমন: ডাইথেন এম-৪৫ বা ইন্ডোফিল ২ গ্রাম/লিটার পানি) ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করুন। রোগ আক্রমণ করে ফেললে স্পর্শক ও অনুপ্রবেশী ছত্রাকনাশক (যেমন: সিকিউর বা এক্রোব্যাট এমজেড ২ গ্রাম/লিটার অথবা রিডোমিল গোল্ড) ৩-৫ দিন পর পর পাতার নিচে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। জমি সবসময় সেচমুক্ত ও শুকনা রাখুন।
উত্তোলনের পর সঠিক পরিচর্যা করলে পচন রোধ হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়।
আলু তোলার পর রোদে না রেখে ছায়াযুক্ত ঠান্ডা ও বাতাস চলাচলযোগ্য স্থানে বিছিয়ে ৭-১০ দিন কিউরিং করুন। এতে আলুর চামড়া আরও পুরু ও শক্ত হয়।
লক্ষ্য: কাটা ও ছিলা অংশের প্রাকৃতিক ক্ষত পূরণক্ষতিগ্রস্ত, পোকা কাটা, সবুজ হয়ে যাওয়া এবং পচা আলু আলাদা করে ফেলুন। খাওয়ার আলু ও বীজ আলু সাইজ অনুযায়ী গ্রেডিং করুন।
লক্ষ্য: গুদামে পচন ছড়ানো রোধদীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কোল্ডস্টোরেজে রাখুন। বাসাবাড়িতে রাখলে মাচার ওপর পাতলা স্তরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে রাখুন।
তাপমাত্রা: বীজ আলুর জন্য ২-৪° সে. উপযোগীআক্রান্ত পাতার ছবি, আলুর বয়স এবং লক্ষণ উল্লেখ করে তাৎক্ষণিক কৃষি কর্মকর্তা বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।